BISWAJIT PAUL

BISWAJIT PAUL
BISWAJIT PAUL
আজ যে গল্পটা বলবো সেটা আসলে গল্প নয়, এ এক সত্যি ঘটনা। গল্পের নায়ক যে বাচ্চা ছেলেটি তার নাম ইয়োহ্যান কার্ল ফ্রেইডরিচ্‌ গাউস (Johann Carl Friedrich Gauss)। জন্ম ১৭৭৭ সালে জার্মানির ব্রাউনসোয়াইগ (Braunschweig) নামের ছোট্ট এক শহরে, ৩০ এপ্রিল তারিখে। গাউসকে বলা হয় “Princeps mathematicorum” যার ইংরেজী করলে হয় “The Prince of Mathematicians”। প্রকৃত অর্থেই গাউসের নাম গণিতশাস্ত্র ও পদার্থবিদ্যায় বারেবারে ফিরে আসে। মাত্র তিন বছরের বয়সেই গাউস তাঁর বাবার করা হিসাবের খাতার যোগফল মিলিয়ে তাতে কোনো ভুল রয়েছে কিনা বলতে পারতেন।
গাউস স্কুলে ভর্তি হন সাত বছর বয়েসে। আমাদের গল্প শুরু হয় এর ঠিক তিন বছর পর। গাউস তখন মাত্র দশ বছরের। এই প্রথম তাঁকে arithmetic অর্থাৎ গণিতের প্রাথমিক ক্লাসে ভর্তি হতে হয়। তাঁদের ক্লাস নিতেন বুট্‌নার (Büttner) নামের এক খিট্‌খিটে স্বভাবের লোক। বুট্‌নারের কাজই ছিল বাচ্চাদের ভয়ানক বড় বড় যোগফল নির্ণয় করতে দিয়ে অঙ্কের প্রতি ভীতি তৈরি করা। গাউসের সেদিন ছিল বুট্‌নারের ক্লাসে প্রথম দিন। বুট্‌নার ক্লাসে এসেই ভয়ানক এক যোগফল নির্ণয় করতে দিলেন- ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সমস্ত পূর্ণসংখ্যার যোগফল। আর যে যে করতে পারবে তারা তাদের স্লেট এসে জমা করবে বুট্‌নারের কাছে। বুট্‌নার জানতেন সারাদিন পেরিয়ে গেলেও এই যোগফল বার করা কোনো ছাত্রের পক্ষেই সম্ভব নয়। তাই মনে মনে টেবিলে একটু জিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন অঙ্কটা কষতে দিতে দিতেই।
কিন্তু ক্লাসে আসা নতুন ছাত্রটিকে তাঁর জানা ছিল না। বুট্‌নারের কথা শেষ হতে না হতেই তার স্লেটটি নিয়ে সে এগিয়ে যায় আর জার্মান ভাষায় বলে “Ligget se” (“এই রইল”)। স্লেটের ওপর লেখা একটাই সংখ্যা “৫০৫০” - ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সকল পূর্ণসংখ্যার যোগফল। বলা বাহুল্য, সারা ক্লাসের শেষে আর যে দু’ একজন স্লেট জমা করেছিল তাদের কারুরই যোগফল নির্ণয় সঠিক হয়নি। একমাত্র প্রথমদিন ক্লাসে আসা গাউসই দিয়েছিলেন সঠিক উত্তর, আর তা বার করতে তাঁর লেগেছিল কয়েক মুহূর্তমাত্র। বুট্‌নারের গাউসের প্রতিভাকে চিনতে কিন্তু দেরি হয়নি সেদিন।
এবার একটা ধাঁধা জাতীয় সমস্যা সমাধানের কথা বলি। এক বৃদ্ধের ছয় পুত্র, বৃদ্ধ বিপত্নীক। তাঁর পুত্রেরা চায় বৃদ্ধ পিতা তাদের যাকিছু সম্পত্তি সমান ভাগে ভাগ করে দিক। এখন এই বৃদ্ধের সম্পত্তির মধ্যে তার বাড়ি-জমি-অর্থ ইত্যাদি ছাড়াও আছে ৩৬ টি গরু। তারা আবার যেমনতেমন গরু নয়। প্রত্যেকটি গরু তাদের ক্রমিক সংখ্যানুসারে চিহ্নিত, অর্থাৎ ১ নং গরু, ২ নং গরু, ৩ নং গরু ... এইরকম করে ৩৬ নং গরু অবধি। আর, আরও মজার ব্যাপার হলো প্রতিদিন ১ নং গরু দেয় ১ লিটার দুধ, ২ নং ২ লিটার, ৩ নং ৩ লিটার ... এই ক্রমামুসারে ৩৬ নং গরু ৩৬ লিটার দুধ। এখন ছেলেরা তাদের বাবাকে বললো গরুও যেন তাদের ভাগ করে দেওয়া হয়, আর এমনভাবে দেওয়া হয় যাতে প্রত্যেকে সমান সংখ্যক গরু পায় এবং প্রত্যেকের ভাগে সমান দুধের পরিমাণও থাকে। তো বৃদ্ধ এখন কীরকম করে তাঁর এই ৩৬ টি গরু তাঁর ৬ পুত্রের মধ্যে ভাগ করবেন?
আসুন গো-বিতরণে একটু সাহায্য করি সেই বৃদ্ধকে, আর সমাধান খুঁজতে খুঁজতে এক নিমেষে নিজেরই অজান্তে পৌঁছে যাই ব্রাউনসোয়াইগ শহরে বুট্‌নার-এর সেই ছোট্ট ক্লাসঘরে, এক্কেবারে অষ্টাদশ শতাব্দীতে।
(গল্প ও ধাঁধা আন্তর্জাল থেকে সংগৃহীত)